মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

চলনবিল এ উপজেলার একটি ঐতিহ্য। বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে মানুষ এ বিল দেখতে আসে এবং নৌকা ভ্রমন করে । খুবজীপুরে একটি  যাদুঘর যা অন্য কোন  উপজেলায় নাই । বোরো মৌসুমে চলনবিলে ধানের ফসলে এক প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য সৃষ্টি করে । এ উপজেলা বর্তমানে রসুনের আবাদের জন্য বিখ্যাত । এ উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে  মামুদপুর ,জোমাই নগর ও বিয়াঘাট গ্রাম এলাকার মোজাফ্ফর জাতের লিচু বিখ্যাত ।

 

 

চলনবিল ও মাছ

 

(গুরুদাসপুর উপজেলা)

 

ঐতিহ্যবাহী জলাভূমি চলনবিল। বাংলাদেশের জলময় ভূ-ভাগের মধ্যে এই বিল সর্ববৃহৎ। রাজশাহী বিভাগের চারটি জেলা আটটি উপজেলা, ৬০টি ইউনিয়ন, ১৬০০ গ্রাম এবং ১৪টি নদী নিয়ে এর বিস্তৃতি। এছাড়া রয়েছে ছোট বড় অনেক জলাশয়।

প্রস্থে চলনবিল প্রায় ১৩কিলোমিটার, তাড়াশ থেকে নারায়নপুর পর্যন্ত প্রস্থ আর দৈর্ঘে সিংড়া থেকে কাছিকাটা পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার।

   সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জ উপজেলা এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার অধিকাংশ অংশ এ বিলের মধ্যে পড়েছে। একপাশে নাটোরের সিংড়া উপজেলা, আরেক পাশে গুমানী নদী। চলনবিলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পাবনার অস্টমনিষা, যেখানে গুমানী এবং বড়াল নদী মিশেছে।

   পুরাতন বক্ষ্মপুত্র গতিপথ পরিবর্তন করে যুমনা জন্মের সময় চলনবিলের উৎপত্তি। সম্ভবত করতোয়া আর আত্রাই নদীর বিস্তৃতি অংশ পরিত্যক্ত হয়ে বিশাল একটা জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এ বিলের সৃষ্টি ঐতিহাসিকভাবে আত্রাই এবং বড়াল নদীর সাথে জড়িত। আত্রাই নদী এই বিলের প্রধান পানি সরবরাহকারী নদী, আর বড়াল নদী দিয়ে এর পানি সরাসরি যুমাতে নিস্কাষিত হয়।

   বর্ষায় এই বিল হয়ে ওঠে কানায় কানায় পূর্ণ। মাছের জন্য পরিণত হয় অভয়ারণ্যে। এ সময় দূরে দূরে অবস্থিত গ্রামগুলো অপরূপ দেখায়। শীতের সময় এসব গ্রাম মেতে ওঠে পানকৌড়ি, মাছরাঙা, শালিক, বক ও বুনো কবুতরসহ নানা পাখির কলতান আর উড়োউড়িতে।

   ১৯১৯ সালে ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ার অব ইন্ডিয়ার হিসেব মতে, চলবিলের আয়তন ৫০০ বর্গমাইল বা প্রায় ১৪২৪ বর্গকিলোমিটার। অপরদিকে ১৯৬৮ সালের জরিপ মোতাবেক চলবিলের আয়তন ৮০০ বর্গমাইল বা প্রায় ২০৭২ কিলোমিটার।

   বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলোমিটারে। সংকুচিত হওয়ার পেছনে রয়েছে অনেক কারণ। বর্ষা মৌসুমে বিলে পলি পড়া (২২২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট), অপরিকল্পিত বসতবাড়ি স্থাপন, জাতীয় প্রয়োজনে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে নাটোরের বনপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এর মহাসড়ক নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।

   এঅঞ্চলের মানুষের অভিমত, চলনবিল মাছ হচ্ছে তাদের শস্যখনি, বাস্তবেও তাই। এখানকার মাটি উর্বর। বিল শুকিয়ে গেলে উর্বর মাটিতে কৃষকগণ ধানের চারা রোপণ করেই উল্লাসে ফেটে পড়েন। তারা জানেন স্বল্প ব্যয়ে তাদের গোলা ভরে যাবে। শুধু তাই নয়, বর্ষার শেষ নাগাদ চলে এখানে মাছ ধরার মহোৎসব। সেই হিসেবে চলবিল মৎস্যখনিও বটে।

   এখানে পাওয়া যায় দেশী পুঁটি, গজার, বোয়াল, শৈল, টাকি, টেংরা, পাতাসী, খলসে, বাইম, কাকলা, চিতল, চেলা, আইকর, শিংসহ নানান ধরণের দেশি মাছ। এই বিপুল মাছের ভান্ডারে আছে প্রচুর কাঁকড়া।

   চলনবিল এলাকায় জমজমাট হয়ে উঠেছে হচ্ছে ঝিনুক-মুক্তার বাণিজ্য। এ বিলে প্রাকৃতিক নিয়মে ঝিনুকের পেটে প্রচুর মুক্তার জন্ম হয়। এখনাকর নাীরা ঝিনুক কুড়িয়ে পেট চিড়ে মুক্তা সগ্র করে বড় কারবারিদের হাতে তুলে দেন আর মাছ চাষীদের হাতে তুলে দেন ঝিনুকের মাংস। তারা পান এর বিনিময় মূল্য।